স্বল্পস্থায়ী সস্মৃতি ও দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। এই পার্থক্যসমূহ মূলত তাদের স্থায়িত্ব, ধারণ ক্ষমতা, বিস্মৃতির কারণ প্রভৃতি সম্পর্কিত।
স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি হলো কোনো তথ্য বা তথ্যসমূহকে খুব অল্প সময়ের জন্য। সঞ্চয় করে রাখা। অপরপক্ষে, দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি হলো শিক্ষণ বা অভিজ্ঞতাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্মৃতিতে ধরে রাখা।।
মন্নস্থায়ী স্মৃতি ক্ষণস্থায়ী। এটি ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির স্থায়িত্ব অল্প সময় হতে অসীম পর্যন্ত; এটি বছরের পর বছর স্থায়ী হতে পারে। স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি ক্ষমতা অল্প (৭°২) কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির ক্ষমতা অসীম। স্বল্পস্থায়ী স্মৃতির ছাপ স্বতঃপরিবর্তনশীল এবং সহজেই মুছে যায়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির ছাপ সহজেই মুছে যায় না। নতুন শিক্ষণ থেকে উদ্ভুত বাধা স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি মুছে যাবার মূল কারণ। কিন্তু এসব কারণ দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না।
স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি থেকে একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় তথ্য দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হয়। এই নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়াটি হলো বিস্তারিত মহড়া। স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিতে তথ্য সংরক্ষণের জন্য বারবার মহড়া দেওয়া হয়। দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিস্তারিত মহড়া। বিস্তারিত মহড়াতে কোনো তথ্যের অর্থ, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়।
Related Question
View Allখুব সহজভাবে বলতে গেলে স্মৃতি হলো তথ্য সংরক্ষণের এমন ক্ষমতা যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যায়।
বলবৃদ্ধি শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে বলে তাকে শিক্ষণের অন্যতম উপাদান বলা হয়। বর্ধন ক্রিয়া বা বলবৃদ্ধি হলো এমন কোনো শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফলে উদ্দীপক-উদ্দীপক সংযোগ বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। ক্ষুধার্ত প্রাণী সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পর যদি খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর শিখবে না। তবে বলবর্ধক পেলে উক্ত প্রতিক্রিয়াটি সে আরও বেশি করবে। তাই প্রেষণার উপযুক্ত বর্ধনক্রিয়া শিক্ষণের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
উদ্দীপকের মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত 'সংযোগ বা অনুষজ্ঞঙ্গ' ফুটে উঠেছে।
শিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বদাই কতকগুলো সাধারণ শর্ত বা উপাদান উপস্থিত থাকে। এসব শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সংযোগ বা অনুষঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে কোনো স্থান বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ঘটনা পাশাপাশি ঘটলেও শিক্ষণ তরান্বিত হয়। দুই ধরনের সংযোগ রয়েছে। যথা-উদ্দীপক সংযোগ; যেমন- আগুন ও ধোঁয়া এ দুটি উদ্দীপক আমরা একইসাথে প্রত্যক্ষ করি। দ্বিতীয়টি উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ যেমন-রাস্তার গাড়ি চালাতে গিয়ে লাল বাতি গাড়ি থামানো এবং সবুজ বাতি দেখে গাড়ি চালানো শুরু করা। এভাবে সংযোগ বা অনুষঙ্গ শিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, একদিন মায়া ঘুম থেকে উঠে তার মাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। পরবর্তীতে জুতার সেলফে মায়ের জুতার অনুপস্থিতি দেখে সে বুঝতে পারে তার অফিসে গেছেন। এখানে দুটো ঘটনার মধ্যে সংযোগ বা অনুষঙ্গ স্থাপিত হয়েছে। প্রথমত, মায়ের অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত জুতার সেলফে জুতা না থাকা এভাবে কোনো স্থানে বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক বা যোগাযোগ তৈরি হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুষঙ্গ ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ। আমেনা বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
আমরা যা শিখি আর যা কিছু ভুলে যাই এ দুয়ের পার্থক্য হলো স্মৃতি। তবে আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি এক রকম নয়। এক রকম না হলেও স্মৃতির বিভিন্ন উপাদান যথা: শিক্ষণ, সংরক্ষণ, পুনরুদ্রেক, প্রত্যভিজ্ঞা প্রভৃতিকে অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিকে উন্নত করা যায়। স্মৃতিকে উন্নত করার কিছু কৌশল রয়েছে যার মধ্যে আবৃত্তি, যুক্তিনিষ্ঠ শিক্ষণ, সামগ্রিক শিক্ষণ, যথাযথ অনুষঙ্গ, সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি, স্মৃতি, সংকেত, গভীর মনোযোগ, তাল ও ছন্দ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কোনো পাঠ মুখস্থ করার সময়ে একই সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা না করে সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি করলে পাঠ-অভ্যাস দ্রুত হয় এবং দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হয়। কোনো পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে তাল ও ছন্দের উপস্থিতি থাকলে তার সাহায্যে শিখলেও শেখাটি দ্রুত হয়।
প্রদত্ত উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, ছায়া সহজে পড়া মনে রাখতে পারে না। তার মা আমেনা বেগম তাকে একই বিষয় বার বার পড়া, ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখা, শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর মাঝে মাঝে পুনরাবৃত্তি এ ধরনের কিছু নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ছায়া খুবই ভালো ফলাফল করেছে। এ থেকে বোঝা যায় ছায়ার স্মৃতির উন্নতি হয়েছে। কেননা, সে পাঠ্যবিষয় মনে রাখতে পেরেছে বলেই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পেরেছে।
পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আমনো বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।
অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিক্ষণ হলো কোনো সমস্যা সমাধানে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে সঠিক সমাধানের আবিষ্কার, যা প্রাথমিকভাবে প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বলবর্ধক উদ্দীপক বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে।
বলবৃদ্ধি বা বলবর্ধক শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পরও যদি ক্ষুধার্ত প্রাণী খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর করবে না। আবার বলবর্ধক পেলে প্রাণীর সঠিকভাবে ওই প্রতিক্রিয়া পুনরায় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এভাবে সংযোগকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বলবর্ধক শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!